উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিত ভাবে সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, শাসকদল ও তাদের ঘনিষ্ঠ মহল প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে চাইছে। অখিলেশের মতে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের আস্থা বিচারব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের ওপর নেই, তাই তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একাধিক পোস্ট করে তিনি জানান, ‘ফর্ম-৭’ ব্যবহার করে ভুয়ো অভিযোগ ও জাল নথির সাহায্যে অনেকের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত এই ফর্ম ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই বিধানকে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া, দলিত ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অখিলেশ আরও বলেন, বুথ স্তরের কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাদের ভয় দেখিয়ে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নাম বাদ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রমাণ হিসেবে তিনি এক কর্মীর ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি হেনস্থার কথা জানিয়েছেন।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি কয়েকটি দাবি তুলেছেন। তার মধ্যে রয়েছে, আপাতত ফর্ম-৭ গ্রহণ বন্ধ রাখা, ইতিমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলি খতিয়ে দেখা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানের কথাও বলেছেন তিনি। ভোটের আগে এমন পদক্ষেপ গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলে তিনি সতর্ক করেছেন।


