ছয় বছর পর অবশেষে দিল্লির এক আদালত ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গার সময় এক তরুণ মুসলিম যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দুই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে সমন জারি করল। মৃত যুবকের নাম ফাইজান, বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। অভিযোগ, দাঙ্গার সময় তাকে মারধর করা হয় এবং জোর করে জাতীয় সঙ্গীত ও ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধ্য করা হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি প্রথমে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন মুসলিম যুবককে লাঠি দিয়ে নির্মম ভাবে পেটাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। ফাইজানও সেই দলের মধ্যে ছিলেন বলে জানা যায়। পরিবারের দাবি, মারধরের পর তাকে বেআইনি ভাবে আটক রাখা হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত প্রধান বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ময়ঙ্ক গোয়েল সিবিআইয়ের দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করেন। তাতে হেড কনস্টেবল রবিন্দর কুমার ও কনস্টেবল পবন যাদবের নাম রয়েছে। আদালত প্রাথমিক ভাবে মনে করেছে, তাদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় আঘাত করা, গুরুতর জখম করা এবং এমন কাজ করা যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এই ধারাগুলিতে মামলা চালানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি তাদের আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফাইজানের মা কিসমাতুন দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করে সঠিক তদন্তের দাবি জানান। তার অভিযোগ, করদমপুরি এলাকায় ছেলেকে মারধর করে জ্যোতি নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়। হাই কোর্ট দিল্লি পুলিশের তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিষয়টি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়। আদালতের মতে, অভিযুক্তরাই যখন তদন্তকারী সংস্থার অংশ, তখন নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। সিবিআই তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহের পর চার্জশিট জমা দেয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আদালতের এই পদক্ষেপে ফাইজানের পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় নতুন করে শক্তি পেয়েছে।


