রাজ্যে মাদ্রাসাগুলির জন্য সরকারি অনুদান বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব চেয়েছে—কোন নীতির ভিত্তিতে অনুদান দেওয়া হচ্ছে এবং কেন কিছু প্রতিষ্ঠানে টাকা পৌঁছচ্ছে না।
আবেদনকারীর দাবি, স্বীকৃত ও নিবন্ধিত একাধিক মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে অনুদান থেকে বঞ্চিত। অথচ একই শ্রেণির অন্য প্রতিষ্ঠান নিয়মিত সাহায্য পাচ্ছে। এতে শিক্ষকদের বেতন, পড়ুয়াদের পরিকাঠামো—সবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। “শিক্ষা তো সবার অধিকার। সেখানে এ রকম ভেদাভেদ কেন?”—আদালতে এমনই প্রশ্ন তোলেন আবেদনকারীর আইনজীবী।
হাই কোর্ট প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, অনুদান বণ্টনে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। সরকার কী মানদণ্ডে তালিকা তৈরি করছে, তা হলফনামা আকারে জানাতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অনুদান সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। কোনও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে। তবে সরকারি মহলের দাবি, সব কিছুই নীতিমালা মেনেই হচ্ছে।
এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে পড়াশোনায় প্রভাব পড়ছে। “মাসের পর মাস বেতন দেরিতে আসছে। ছাত্রদের জন্য বই-খাতা জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে,” জানান এক শিক্ষক।
আদালতের পর্যবেক্ষণের পর বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।


