পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই ইস্যুতে বিরোধিতায় সরব হয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি সরকারের-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজ্যের শাসক শিবির। অপরদিকে সাধারণ মানুষের হয়রানির কারণে, সিপিএম ও কংগ্রেস দুটি দলকেই বিদ্ধ করেছে বারংবার।
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি ও সুকনা এলাকার একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, বিধানসভা ভোট শেষ হওয়ার পর যেসব মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের নাম আবার ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজ্যের বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
সভা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার জন্য রাজ্য প্রশাসনই দায়ী। পাশাপাশি তিনি বলেন, এবার পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং মানুষকে একজোট হয়ে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানান।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বহু বৈধ ভোটারের নাম হঠাৎ করেই তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, যার ফলে তারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রকৃত ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা হবে।
তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি ও সুকনা অঞ্চলে বক্তিতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন ভোটের পর বাদ যাওয়া সকলের নাম ভোটার তালিকায় নথিভূক্ত করা হবে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি বারংবার অভিযোগ করছে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশে বিজেপির মদতে খর্ব হচ্ছে আমজনতার ভোটাধিকার। অপরদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। তবে সিপিএম অভিযোগ তুলছে, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ যাচাই ছাড়াই নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিষয়টি আগামী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সকল বৈধ ভোটারের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।


