কেরলের রাজনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি হল। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সংগঠন ভেঙে আলাদা পথে হাঁটার ঘোষণা দিলেন দলের রাজ্য সমন্বয়ক পি.ভি.অনভারের। সোমবার এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, খুব শিগগিরই নতুন একটি রাজনৈতিক দল গড়া হবে।
আনভার বলেন, গত দেড় বছরে কেরলের বিভিন্ন জেলায়, বিধানসভা এলাকা এবং পঞ্চায়েত স্তরে সংগঠন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সর্বভারতীয় দল হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা মেলেনি। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই অভাব স্পষ্টভাবে অনুভব করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হওয়া নির্বাচনে তিনি কোঝিকোড় জেলার বেপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই সময় তিনি ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের সমর্থন নিয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়েন। এর আগে তিনি বাম শিবির ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিভ ফ্রন্ট-এর সমর্থন পান।
আনোয়ারের দাবি, তিনি যখন বাম জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, তখন তৃণমূল নেতৃত্বকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন। কেরলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করেই এগোতে হবে বলেও তিনি মত দেন। প্রথমে আপত্তি না থাকলেও পরে দলের অবস্থান বদলে যায়।
তিনি আরও জানান, ভোটের সময় দলের একজন জাতীয় নেতাকে প্রচারে আসার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে একই মঞ্চে ওঠা যাবে না বলে সেই অনুরোধ নাকচ করা হয়। এর ফলে নির্বাচনী প্রচারে সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
আনোয়ারের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়। কিন্তু এই ধরনের অবস্থান নিয়ে কেরলে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতিতে কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনও শক্তিকে সমর্থন করার প্রশ্নই ওঠে না।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য কমিটি সর্বসম্মতভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। আনোয়ার জানান, জেলা স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ মে-র মধ্যে নতুন দলের রূপরেখা প্রকাশ করা হবে।
নতুন দলটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী হবে বলে জানানো হয়েছে। কেরলের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি এই দল ইউডিএফের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলবে এবং রাজ্যের বর্তমান সরকারের বিরোধিতা করবে।
কেরলের রাজনীতিতে এই নতুন পদক্ষেপ আগামী দিনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


