আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ)-এর ক্যাম্পাসে ছড়ালো ফের উত্তেজনা। অভিযোগ, গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিতীয় বর্ষের আইন বিভাগের ছাত্র আমজাদ আলির উপর হামলা চালানো হয়। আমজাদ, যিনি আম্বেদকর হলের ছাত্র, জানান যে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সংলগ্ন পার্কিং এলাকায় সাতজনের একটি দল তার উপর চড়াও হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে তিনি চিহ্নিত করেছেন।
আমজাদের অভিযোগ, বিকেল পাঁচটার সময় তিনি স্কুটার পার্ক করে লাইব্রেরির দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই ওই দলটি তাকে গালাগাল করে ও মারধর করা শুরু করে। হামলাকারীদের একজন দেশি বন্দুক বের করে গুলি চালায়। মারধরের সময় তার হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
আমজাদের দাবি, তার ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছাত্র-অধিকার আন্দোলনের ভূমিকার কারণেই এই হামলা। তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরে তাকে নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আমজাদ জানান, “ওরা বারবার হোস্টেলের সামনে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করত, বলত আমাকে মেরে ফেলবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত চারজন ছাত্র ও তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। আলিগড় সিভিল লাইন থানার ইন্সপেক্টর পঙ্কজ মিশ্র জানান, তদন্ত চলছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দফতর জানিয়েছে, ঘটনাটি ছাত্রদের মধ্যে বিবাদ থেকে ঘটেছে। সহ-প্রক্টর প্রফেসর হাশমত আলি বলেন, “উভয় পক্ষই অভিযোগ করেছে, আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছি এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।” বিশ্ববিদ্যালয় এখনও এই বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি বলে জানা গিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছে তদন্তে গাফিলতি হলে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদে নামবে তারা।


