অন্ধ্রপ্রদেশের কাডাপায় সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি বা এপিসিআর প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সহিংসতার ঘটনার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বিরুদ্ধে বেছে বেছে পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে গ্রেফতার, হেফাজতে মারধর এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি রাস্তার নামকরণ নিয়ে। কাডাপার আলমাসপেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘টিপু সুলতান সার্কেল’ নামকরণের দাবি উঠেছিল। অন্যদিকে, কিছু সংগঠন ওই জায়গার নাম ‘হনুমান সার্কেল’ রাখার দাবিতে প্রচার চালাচ্ছিল। এই নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত ৯ মে পরিস্থিতি হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন সকালে মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ ‘টিপু সুলতান সার্কেল’-এর সমর্থনে ব্যানার লাগাতে সেখানে জড়ো হন। একই সময়ে বিজেপি এবং কয়েকটি ডানপন্থী সংগঠনের নেতারাও অন্য ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হন। শুরুতে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা দ্রুত সংঘর্ষে পরিণত হয়।
পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে দাবি করা হয়েছে, কিছু মুসলিম যুবক পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে এপিসিআর তাদের প্রতিবেদনে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থার দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী প্রথমে কয়েকজন শিশু খালি জলের প্যাকেট ছুড়ে মারে। এরপর অপর পক্ষ থেকে পাথর ছোড়া শুরু হয় এবং পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। রিপোর্টে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু ডানপন্থী গোষ্ঠী আগে থেকেই মুসলিমদের লক্ষ্য করে আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছিল।
সংগঠনটির আরও দাবি, ভিড় ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পরও পুলিশ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ঢুকে লাঠিচার্জ চালায়। এতে বহু মানুষ আহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০০ জন মুসলিম আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অনেকে আবার পুলিশের ভয়ে হাসপাতালে যেতে সাহস পাননি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।


