Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

ভোটাভুটিতে পরাজয়ের আশঙ্কা! মার্কিন হাউসে ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার

ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজেদের দলে ভাঙন এবং ভোটাভুটিতে পরাজয়ের আশঙ্কায় মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল শাসকদল রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার একক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং তাঁর যুদ্ধংদেহী নীতির সমালোচনা করে বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টির সদস্যরা হাউসে একটি নিন্দাসূচক প্রস্তাব এনেছিলেন। কিন্তু ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার ভয়ে রিপাবলিকানরা শেষ মুহূর্তে সেই ভোটপ্রক্রিয়াই বাতিল করে দেয়। নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তথা বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক হাউস কমিটির সদস্য গ্রেগরি মিকস এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। ভোটাভুটির সময় রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ অনুপস্থিত থাকায় ট্রাম্প অনুগামীরা প্রবল আপত্তি তোলেন এবং সেই আপত্তির মুখে ভোট স্থগিত রাখা হয়। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে মার্কিন হাউসের তিন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস, হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাস চেয়ার পিট অ্যাগুইলার একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হাউস এখন দেশের সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে সম্পূর্ণভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি তাঁবেদার সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে ডেমোক্র্যাট নেতারা আরও জানান যে, রিপাবলিকানরা অত্যন্ত কাপুরুষের মতো একটি পূর্বনির্ধারিত ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশনের ভোট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই আইনটি দুই দলের যৌথ সমর্থনে অনায়াসে পাস হয়ে যেত এবং এটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ করতে বাধ্য হতেন। তবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার তথা রিপাবলিকান নেতা মাইক জনসন জানিয়েছেন, আগামী জুন মাসে এই বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভোটাভুটি হতে পারে। আমেরিকার ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের আগাম অনুমোদন ছাড়া যদি কোনো যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্দিষ্ট থাকে। প্রেসিডেন্ট তাঁর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সময়টুকুর মধ্যেই সামরিক পদক্ষেপ চালাতে পারেন। এরপর সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় পাওয়া যায়, কিন্তু নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান চালাতে গেলে তার সমস্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান পেশ করে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি নামক সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। মার্কিন আইন মেনে যুদ্ধ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে সেই বিষয়ে জানানোও হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে, যার সুযোগ নিয়ে ট্রাম্প সরকার ইরানে নতুন করে বড়সড় হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশ পেন্টাগনের সূত্র ধরে দাবি করেছে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি স্বয়ং শাসকদল রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েকজন সেনেটর এবং হাউস সদস্যও এই নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার ঘোর বিরোধী। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্প সরকার এখনও পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের কোনো আইনি অনুমোদন নেয়নি, যা নিয়ে আমেরিকার অন্দরেই এখন তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories