তেলেঙ্গানায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক অশান্তির ঘটনাগুলি স্বাভাবিক বা হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছে, এমনই দাবি করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর)। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় গুজব ছড়ানো, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং সংগঠিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ সমস্যাও দ্রুত সাম্প্রদায়িক রূপ নিচ্ছে। ডানপন্থী কিছু গোষ্ঠীর সক্রিয় ভূমিকা এবং প্রশাসনের উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, সংরক্ষণ নীতি এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ধর্মীয় রঙ দেওয়া হচ্ছে। এতে আদিবাসী, দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই উত্তেজনার কারণে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
হায়দরাবাদের নেহরু অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলা এবং সমাজকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঈদ, কুরবানি বা মসজিদ-মাদ্রাসার কর্মকাণ্ডের সময় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি ও প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা দুর্বল হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রান্তিক মানুষরাই—এমন মন্তব্যও করা হয়েছে। এপিসিআর প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্থানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।


