বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের দ্রুত নাগরিকত্বের জন্য সিএএ-তে আবেদন করার আহ্বান জানালেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। শনিবার নদিয়ার তেহট্ট থানার বেতাই নতুনপাড়া খেলার মাঠে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই বার্তা দেন।
অশোক কীর্তনিয়া বলেন, “১৯৪৭ সালে দেশভাগের ফলে মতুয়া সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দীর্ঘদিন তাঁরা বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মতুয়া সমাজ তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা ফিরে পেতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মতুয়া সমাজের উন্নয়ন ও নাগরিকত্বের প্রশ্নে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা যদি সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন না করেন, তাহলে ভবিষ্যতে নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রত্যেকেরই দ্রুত আবেদন করা উচিত।”
সভা থেকে মতুয়া সমাজের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের উপরও জোর দেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মতুয়া সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিতে হবে। আমরা চাই তাঁরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইএএস, আইপিএস-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে পৌঁছাক। সমাজকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার বিকল্প নেই।”
নিজেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে অশোক কীর্তনিয়া বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। মতুয়া সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা আরও বৃহত্তর সামাজিক উন্নয়নের পথে এগোতে চাই।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বেতাই স্টেডিয়ামের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী অন্ত্যোদয় যোজনার আওতায় যাঁরা প্রকৃত সুবিধাপ্রাপক হওয়া সত্ত্বেও এখনও কার্ড পাননি, তাঁদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
খাদ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক কারণে অনেক যোগ্য মানুষ অন্ত্যোদয় যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।” তিনি আশ্বাস দেন, সমস্ত তথ্য যাচাই করে প্রকৃত উপভোক্তাদের অন্ত্যোদয় যোজনার কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখে নাগরিকত্ব, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের প্রশ্নে বিজেপি নেতৃত্বের এই বার্তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


