শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও পুনর্উন্নয়ন প্রকল্পের পথ সুগম করতে ১,০৮০টি গাছ কেটে ফেলার প্রস্তাবে অনুমোদন দিল মুম্বাইয়ের ‘ট্রি অথরিটি’। শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে থানের চেড্ডা নগর-আনন্দ নগর এলিভেটেড করিডোর প্রকল্প, গোরগাঁওয়ের মতিলাল নগর পুনর্উন্নয়ন প্রকল্প এবং বান্দ্রার কয়েকটি পুনর্উন্নয়ন প্রকল্প।
ট্রি অথরিটির অনুমোদন অনুযায়ী, চেড্ডা নগর ও আনন্দ নগরের মধ্যে ফ্রি-ওয়ে সম্প্রসারণ ও এলিভেটেড করিডোর নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৬২১টি গাছ এবং মতিলাল নগর পুনর্উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ২২০টি গাছ অপসারণ করা হবে। এছাড়া বান্দ্রার বিভিন্ন পুনর্উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে আরও ২৩৯টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকল্পগুলির আওতায় চিহ্নিত গাছগুলির মধ্যে একটি অংশ সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হবে এবং বাকি গাছগুলি অন্যত্র স্থানান্তর বা পুনরোপণ করা হবে। মতিলাল নগর প্রকল্পে ২২০টি গাছের মধ্যে ৮৯টি কাটার এবং ১৩১টি স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। অন্যদিকে, চেড্ডা নগর-আনন্দ নগর করিডোর প্রকল্পে ৬২১টি গাছের মধ্যে ২১৮টি কেটে ফেলা হবে এবং ৪০৩টি অন্যত্র রোপণ করা হবে।
বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ট্রি অথরিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্কও দেখা যায়। বিশেষ করে ইস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ের ধারে গাছ কাটার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হন শিবসেনা (ইউবিটি)-র সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, শত শত গাছ সম্পূর্ণ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং গাছ স্থানান্তরের বিকল্প আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত ছিল।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র কর্পোরেটর ও ট্রি অথরিটির সদস্য কিশোরী পেডনেকার বলেন, গাছ কেটে ফেলার প্রয়োজনীয়তা এবং কাটা গাছের কাঠ কোথায় ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছিল। তবে সেই আপত্তি সত্ত্বেও প্রস্তাবগুলি অনুমোদন পেয়ে যায়।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা ও ট্রি কমিটির সদস্য গণেশ খানকার দাবি করেন, প্রকল্পগুলির পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে গাছপালার ওপর প্রভাব যতটা সম্ভব কমানো যায়। তাঁর মতে, চেড্ডা নগর-আনন্দ নগর এলিভেটেড করিডোর দীর্ঘদিনের জনদাবি এবং এটি বাস্তবায়িত হলে মুম্বাই ও থানের মধ্যে যাতায়াত অনেক সহজ হবে। উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে মুম্বাইয়ে। ট্রি অথরিটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।


