অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একাধিক মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে ঘিরে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্যের ৪৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক। লেখক, শিক্ষাবিদ, প্রাক্তন আমলা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের সই করা এই চিঠিতে আদালতের কাছে স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বাঙালি-মুসলিম জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ঘৃণাত্মক ভাষণের মধ্যে পড়ে। আবেদনকারীদের দাবি, এই ধরনের বক্তব্য সংবিধানের ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধকে আঘাত করে।
পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের আপত্তি দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার কথা তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আবেদনকারীদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ও ভূমিকা সাংবিধানিক শপথের পরিপন্থী। যেহেতু অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাই, তাই প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর ভরসা না করে আদালতের হস্তক্ষেপই প্রয়োজন বলে দাবি তাঁদের।
চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত যত উচ্চপদস্থই হোন না কেন, স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই পরিস্থিতিতে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।


