আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বরপেটা জেলায় একটি সরকারি কর্মসূচির ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি হিন্দু সমাজকে বেশি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দেন। তার বক্তব্য, রাজ্যে হিন্দুদের জন্মহার কমছে, যা ভবিষ্যতে সামাজিক ভারসাম্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্মহার তুলনামূলক ভাবে বেশি, অন্যদিকে হিন্দু পরিবারগুলিতে সন্তানের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। এই ব্যবধানই ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে তার দাবি। সেই কারণেই তিনি হিন্দুদের উদ্দেশে বলেন, শুধু এক বা দু’টি সন্তানে সীমাবদ্ধ না থেকে, পরিস্থিতি বুঝে আরও সন্তানের কথা ভাবা উচিত।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ঘরবাড়ি ও সমাজ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মানুষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি মুসলিম সমাজের কাছেও কম সন্তান নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তবে শর্মা স্বীকার করেন, বিধানসভা কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্গঠনের পর রাজ্যের জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র এই মুহূর্তে তার কাছে সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও তিনি জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে আসামে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছে।
এর পাশাপাশি সম্প্রতি রাজ্য সরকার তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি, চা বাগানের শ্রমিক এবং কিছু আদিবাসী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ‘দুই সন্তান নীতি’ শিথিল করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আসাম জনসংখ্যা ও নারী ক্ষমতায়ন নীতির আওতাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হতে পারে।


