অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছেন, তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে যে আইন বিজেপি সরকার আনছে, তাতে অভিযুক্ত পুরুষের মা-বাবাকেও গ্রেফতার করার বিধান থাকবে। এই সিদ্ধান্তে শুরু হয়েছে প্রবল সমালোচনা ও রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক। প্রথম সারির এক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে সরকার একাধিক বিল পেশ করতে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে বহুবিবাহ বিরোধী আইন এবং ‘লাভ জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, “আমরা আমাদের মহিলাদের রক্ষা করতে চাই। কারণ, তারা ‘লাভ জিহাদ’ এর শিকার হচ্ছেন।” তার দাবি, নতুন আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবারকেও জবাবদিহি করতে হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রাজ্যের নানা সমস্যার দৃষ্টি ঘোরাতেই মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের আইন আনার চেষ্টা করছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামোন্নয়নের ক্ষেত্রে তেমন উন্নতি না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, এমনকি অনেক স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিরোধীরা দাবি করছে, হিমন্তের মুসলিম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ রাজ্যে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করছে। মাদ্রাসা বন্ধ করা, মুসলিমদের ঘরবাড়ি ভাঙা ও বাংলাদেশি তকমা দেওয়া, এসবই তার রাজনৈতিক কৌশল। এমনকি তিনি সংবিধানের মূল নীতিকেও উপেক্ষা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইন অনুযায়ী, অভিযুক্তের মা-বাবাকে জেলে পাঠানোর প্রস্তাব ভারতের সংবিধানবিরোধী।


