দেশজুড়ে SIR হওয়ার কথা থাকলেও অসমকে এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ রাখা হয়েছে। সেখানে SIR-এর বদলে চালু করা হবে বিশেষ সংশোধন অর্থাৎ SR। নির্বাচন কমিশন সোমবার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর থেকেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তোলপাড় হচ্ছে রাজনীতি। মঙ্গলবার এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি জানান, SR-এর মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ ভোটারদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া। তাঁর দাবি, এনআরসি এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত না হওয়ায় SIR চালানো সম্ভব হয়নি। তাই সাময়িকভাবে SIR বন্ধ রেখে শুধু SR করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে এবং যোগ্য নাগরিকদের নামই শুধু তালিকায় থাকবে।
তবে বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, বিহারে SIR করে বিজেপিকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এবার একইভাবে অসমেও ভোটার তালিকা থেকে বিরোধী দলকে সমর্থনকারী মানুষদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে কি না তা নিয়েই এখন সন্দেহ তৈরি হয়েছে। রাহুল গান্ধী একাধিকবার ভোটচুরির অভিযোগ তুলেছেন। বিরোধীরা আরও বলছে, অসমে ইতিমধ্যেই মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, মসজিদ ও মাদ্রাসায় বুলডোজার অভিযান চলেছে। এবার কি ভোটার তালিকা থেকেও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নাম বুলডোজার করা হবে? এর মধ্যেই সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ২০২৬ সালের শুরুতে হতে চলা পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং কেরলে যখন নিয়মমাফিক SIR চলছে, তখন অসমে শুধু SR হওয়া নিয়েই বাড়ছে জল্পনা।


