অযোধ্যার রামমন্দিরকে ঘিরে অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। অভিযোগ উঠেছে, ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ও দানসামগ্রীর হিসাব নিয়ে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে ধর্মীয় সংগঠনগুলির মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন সমাজবাদী পার্টির প্রাক্তন বিধায়ক পবন পাণ্ডে দাবি করেন, মন্দিরে জমা পড়া কয়েক কোটি টাকার অনুদানের সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে জোরদার আলোচনা শুরু হয়। পরে বিজেপির এক নেতাও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠান।
ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকায় কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও বিষয়টি নিয়ে তথ্য চাওয়া হয়। এরপর উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করে। তদন্তকারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্দিরের অনুদান গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং হিসাবরক্ষার সমস্ত প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার।
তদন্ত চলাকালীন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মীর আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের অভিযানে এক কর্মচারীর বাড়ি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুধু নগদ অর্থ নয়, অনুদান গণনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মীর সম্পত্তি বৃদ্ধির বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। তাঁদের আয় এবং সম্পদের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্দির প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের ভূমিকা সম্পর্কেও তদন্ত চলছে।
এদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ প্রকাশ্যে দাবি করেছে, ঘটনায় দ্রুত এফআইআর দায়ের করে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচার হওয়া উচিত। সংগঠনের বক্তব্য, যে-ই দোষী হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, নিজেদের উপর থেকে দায় সরাতেই এই অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি।
বিতর্ক আরও বেড়েছে এক শিল্পপতির বক্তব্য ঘিরে। তিনি দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে রামমন্দির নির্মাণের জন্য রুপোর ইট দান করলেও তার কোনও রসিদ পাননি। সেই দানসামগ্রীর ব্যবহার সম্পর্কেও এখনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, মন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে অনুদান গ্রহণ ও গণনার পুরো প্রক্রিয়া সিসিটিভির নজরদারিতে হয় এবং সেখানে একাধিক কর্মী একসঙ্গে কাজ করেন। তবুও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
এসআইটি ইতিমধ্যে বেশ কিছু নথি পরীক্ষা করেছে এবং ট্রাস্টের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে। অনুদানের অর্থ, সোনা, রুপো ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর হিসাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা শাসক দলকে আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে, যদিও বিজেপি ও রাজ্য সরকার দাবি করেছে যে মন্দিরের দৈনন্দিন পরিচালনার সঙ্গে তাদের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই।


