অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা চুরির বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পর এমনিতেই অযোধ্যায় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি আর এবার খোদ রামমন্দির আন্দোলনের দুই প্রবীণ ও প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ট্রাস্টের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা বিনয় কাটিহার সরাসরি মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ট্রাস্টের পদাধিকারীদের চোর আখ্যা দিয়ে তাঁদের অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন। তাঁর এই মন্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আগুনে ঘি ঢেলেছেন কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা বিজেপি নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিং। তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভেতরে মারাত্মক কিছু ঘটছে এবং সত্যটা সামনে আনলে প্রভাবশালী অপরাধীদের কারণে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই দুর্নীতির খতিয়ান সামনে এনে আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। প্রাথমিক দিকে রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট এই অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও, অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর তারাও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে। এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার তড়িঘড়ি তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে। আইএএস এবং প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের নিয়ে গঠিত এই দল ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমে অযোধ্যা থেকে মন্দিরের দুই কর্মচারীকে হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক লক্ষ নগদ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনাদানা উদ্ধার হয়েছে।
শত শত বছর ধরে কোটি কোটি রামভক্তের আবেগ ও অনুদানের টাকায় তৈরি এই পুণ্যভূমিতে এমন কলঙ্কজনক চুরির ঘটনা এবং দলের অন্দরের এই বিদ্রোহের জেরে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখন সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে। বিরোধী শিবিরের আক্রমণের পাশাপাশি খোদ নিজেদের ঘরের নেতারাই যেভাবে দুর্নীতিবাজদের আড়াল করার অভিযোগ তুলছেন, তাতে উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা এখন প্রশ্নের মুখে।


