মহিলা কুস্তিগিরদের দায়ের করা যৌন হেনস্তার মামলায় প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ও ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের (ডব্লিউএফআই) প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে বেকসুর খালাস দিল দিল্লির একটি আদালত। একই সঙ্গে এই মামলার অপর অভিযুক্ত বিনোদ তোমারকেও সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট এই রায় দেন।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালে, যখন দেশের একাধিক মহিলা কুস্তিগির ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে দিল্লির জন্তর মন্তরে দীর্ঘ আন্দোলন শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ডব্লিউএফআইয়ের অফিস, ব্রিজভূষণের বাসভবন এবং বিদেশ সফরের সময় তাঁদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়। আন্দোলনের পর দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
তদন্তের পর আদালত ২০২৪ সালের মে মাসে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ গঠন করেছিল। যদিও এক অভিযোগকারীর ক্ষেত্রে তাঁকে আগেই অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিচার চলাকালীন ব্রিজভূষণ এবং বিনোদ তোমার দু’জনই জামিনে ছিলেন। এর আগে এক নাবালিকা কুস্তিগিরের অভিযোগ সংক্রান্ত পকসো মামলাও পুলিশের চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বন্ধ হয়ে যায়।
রায় ঘোষণার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় ব্রিজভূষণ শরণ সিং বলেন, “যেদিন আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছিল, সেদিনই বলেছিলাম, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি নিজেই ফাঁসিতে ঝুলতে প্রস্তুত। আজ আদালত আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে।”
অন্যদিকে, এই রায়ে হতাশ মহিলা কুস্তিগিররা। আন্দোলনের অন্যতম মুখ ভিনেশ ফোগাট স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা আশা হারাইনি। ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করব।” তাঁর সঙ্গে বজরং পুনিয়াও জানান, আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।
এই মামলাটি গত কয়েক বছরে দেশের ক্রীড়া জগতের অন্যতম আলোচিত বিতর্কে পরিণত হয়েছিল। জন্তর মন্তরে কুস্তিগিরদের আন্দোলন, তদন্ত এবং আদালতের শুনানি ঘিরে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছিল। তবে সোমবারের রায়ের পরও মামলাটি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। অভিযোগকারীরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


