তৃণমূল ক্ষমতা থেকে যেতেই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় কি দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে মুখ ফেরালো? একাধিক মন্তব্য করে ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েই প্রশ্ন তোলেননি, একই সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাকেও কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন।সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দলের ভিতরে প্রবীণ নেতাদের যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার ফলেই বহু অভিজ্ঞ নেতা দূরে সরে গিয়েছেন। তাঁর মতে, সংগঠনে দীর্ঘদিন কাজ করা ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় ঘাটতি থেকেই দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংকট বা ভাঙনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তার জন্য নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত দায়ী। বাবুনের বক্তব্য, অনেক নেতা নিজেদের গুরুত্ব হারিয়েছেন বলে মনে করছেন। ফলে সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়েছে এবং তার প্রভাব ভোটের ফলাফলেও পড়েছে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন তরুণ নেতা হিসেবে আরও সংযত এবং অভিজ্ঞদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাঁর মতে, রাজনৈতিক জীবনে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, সহকর্মীদের সম্মান অর্জন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।শুধু সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেন তিনি। বাবুনের কথায়, শুভেন্দু এমন একজন নেতা যিনি সংগঠন পরিচালনা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জানান, শুভেন্দুর প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও স্নেহ রয়েছে।এর পাশাপাশি বাবুন ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে নতুন সিদ্ধান্ত নিতেও তিনি প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারী যদি তাঁকে কোনও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান, তবে সেই বিষয়ে তিনি ইতিবাচকভাবে ভাববেন। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, তিনি কি ভবিষ্যতে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন?তবে এই বিতর্কের মাঝে আবারও সামনে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি। ২০২৪ সালে প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক আর নেই। সেই সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, বাবুনকে তিনি পরিবারের সদস্য হিসেবে আর বিবেচনা করেন না এবং রাজনৈতিক ও পারিবারিক উভয় ক্ষেত্রেই দূরত্ব বজায় রাখবেন।বর্তমানে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধারাবাহিক মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
Popular Categories


