বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই কালীঘাটের চেনা সাম্রাজ্যে নজিরবিহীন ধস নামতে শুরু করেছে। এবার খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারেই প্রকাশ্য ফাটল ধরালেন তাঁর ভাই স্বপন ওরফে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়। ময়দানে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দল ও পরিবারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিকের হাত ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। বাবুনের স্পষ্ট অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর কোনোদিন বনিবনা হয়নি এবং অরূপ তাঁকে কাজ করতে দেননি। এমনকি সুজিত বসু মিথ্যে কথা বলে তাঁর কাছ থেকে হকির দায়িত্ব কেড়ে নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে কোণঠাসা ও ত্যাজ্যপুত্রের মতো থাকার যন্ত্রণা প্রকাশ করে বাবুন জানান, দিদি তাঁকে কেবল ভাইফোঁটা আর রাখিতেই ডাকতেন।
পরিবারের পাশাপাশি ঘাসফুল শিবিরের অন্দরেও এখন চূড়ান্ত ভাঙনের আবহ তৈরি হয়েছে। সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কারের পর মঙ্গলবার সেই জল্পনা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রয়োজন ৫২ জন বিধায়কের সমর্থন। বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা কমে ৭৮ হওয়ায়, দুই তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করতে ঋতব্রতদের আরও ৫০ জনের সমর্থন দরকার।
সূত্রের খবর, বহিষ্কৃত এই দুই নেতার কাছে ইতিমধ্যেই সেই প্রয়োজনীয় ম্যাজিক সংখ্যা চলে এসেছে। মালদা ও মুর্শিদাবাদের একঝাঁক তৃণমূল বিধায়ক সশরীরে এমএলএ হস্টেলে গিয়ে ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বহু প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক ফোনে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এই বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সই করা চিঠি আজ মঙ্গলবারই বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়তে পারে বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, একদিকে ঘরের ভাইয়ের বিদ্রোহ আর অন্যদিকে দলের অন্দরে গণ-দলত্যাগের প্রস্তুতি, চরম দেউলিয়া দশায় পড়া তৃণমূলকে বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন দিশেহারা হয়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে।


