সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সই জালিয়াতির মারাত্মক অভিযোগ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিধায়কদের গণ-বিদ্রোহে রাজ্য রাজনীতি ওলটপালট হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতাদের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক এবার শিবসেনা বা এনসিপি-র কায়দায় ‘আসল তৃণমূল’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর ফলে মহারাষ্ট্রের দল ভাঙানোর সেই চেনা ছায়া এখন বাংলার বুকেও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভায় তৃণমূলের প্রধান বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠির ওপর ভিত্তি করে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে ওই পদে বেছে নেওয়া হয় এবং বিধায়কদের সই করা একটি তালিকা জমা পড়ে। কিন্তু এরপরই অভিযোগ ওঠে যে ওই তালিকার একাধিক সই আসলে জাল। এই জালিয়াতির তদন্তে রাজ্য সরকার সিট গঠন করেছে এবং সই যাচাই করতে সিআইডি আধিকারিকরা খোদ অভিষেকের বাড়িতেও হানা দিয়েছেন। এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই রবিবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা জরুরি বৈঠকে আশি জন বিধায়কের মধ্যে হাজির ছিলেন মাত্র কুড়ি জন। বাকি ষাট জন বিধায়কের এই অনুপস্থিতি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক প্রকাশ্য নীরব বিদ্রোহের রূপ নিয়েছে।
এই ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে ময়দানে নেমেছেন দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। গত ৪৮ ঘণ্টায় তাঁরা অত্যন্ত গোপনে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষুব্ধ বিধায়কের সমর্থন আদায় করেছেন। এই বিধায়কদের সই করা চিঠি নিয়ে ঋতব্রতকে দলনেতা ঘোষণা করে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ দ্বন্দ্ব এবং অভিষেকের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভই আজ দলকে এই খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। বহিরাগত কোনো শক্তি নয়, বরং কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এখন ঘাসফুল শিবিরকে পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।


