কর্ণাটকের বাগালকোট জেলায় শিবাজী জয়ন্তীর মিছিলকে ঘিরে টানটান পরিস্থিতি তৈরি হল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নবনগর এলাকার কিলা ওনির কাছে একটি মসজিদের সামনে হঠাৎ পাথর ছোড়াছুড়ির অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, বড় ধরনের কোনও চোটের খবর নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ পুরনো শহর এলাকা থেকে শিবাজী জয়ন্তীর শোভাযাত্রা শুরু হয়। রাত সাড়ে ন’টার দিকে মিছিল যখন শেষ পর্যায়ে, তখনই মসজিদের দিক থেকে দু’টি পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। একটি পাথর নাকি ভিতরে রাখা জুতোর স্ট্যান্ডে ঠেস দেওয়া অবস্থায় ছিল, সেখান থেকে পড়ে যায়। ঘটনায় পুলিশ কর্মীরা সতর্ক হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক যুবককে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাকে-সহ মোট আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ গয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। দু’টি পাথর ছোড়া ছাড়া বড় কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভিড় জমায়েত রুখতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে—রাত বারোটা থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ জনের বেশি একত্রিত হওয়া নিষিদ্ধ।
তবে শুক্রবার সকালে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। একদল যুবক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তায় নেমে স্লোগান দেয় এবং কয়েকটি মাংসের দোকানে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। কর্তব্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও সাত জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গোটা ঘটনায় ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। দাঙ্গা, অবৈধ জমায়েত, সরকারি কর্মীর উপর হামলা-সহ একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।
এদিকে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া ঘটনাকে “দুর্ভাগ্যজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি সকলকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেন, “আইন নিজের পথে চলবে। অপরাধী যে-ই হোক, ছাড়া হবে না।”
অন্যদিকে, বিরোধী শিবির থেকে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং দু’পক্ষের প্রবীণদের সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, “উৎসবের দিন এ ভাবে অশান্তি কেউ চায় না। বাচ্চারা ভয় পেয়েছে, দোকানপাট তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে গেছে।”
প্রশাসনের তরফে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ টহল জারি রয়েছে।


