উত্তরপ্রদেশের বলিয়া জেলার রেওতি এলাকায় এক দলিত যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মৃত যুবকের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দেহ গ্রহণে অস্বীকার করেন এবং রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত যুবকের নাম কামজি গন্ড। পরিবারের দাবি, গত ৮ জুলাই একটি স্থানীয় বিবাদের ঘটনায় পুলিশ তাঁকে আটক করে রেওতি থানায় নিয়ে যায়। এরপর থানার ভিতরে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে গ্রামের বাইরে ফেলে রেখে যায় পুলিশ।
পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে দ্রুত কামজি গন্ডকে উদ্ধার করে বারাণসীর বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইচইউ) হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়।
১১ জুলাই কামজি গন্ডের দেহ গ্রামে পৌঁছায়। এরপর থেকেই পরিবার ও স্থানীয় দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ১২ জুলাই মৃতদেহ রাস্তার উপর রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ঘটনায় জড়িত থানার এক সাব-ইনস্পেক্টর, এক কনস্টেবল এবং গ্রামের প্রধানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ওই ব্যক্তিরা জড়িত।
বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা অবরোধ চলে। ফলে এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বহু যানবাহন আটকে পড়ে। এমনকি একটি অ্যাম্বুল্যান্সও যানজটের মধ্যে আটকে যায় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকলে প্রশাসনের কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
খবর পেয়ে বৈরিয়া সার্কেলের পুলিশ আধিকারিক অলোক গুপ্ত ঘটনাস্থলে যান এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পরিবারকে আশ্বাস দেন যে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে সত্য প্রকাশ্যে আনা হোক এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


