দেশের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ায় রেশন ব্যবস্থার আওতায় থাকা অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার সুবিধাভোগীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ।
বর্তমানে খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় দুই ধরনের পরিবার বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পেয়ে থাকে। একদিকে রয়েছে প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড (পিএইচএইচ), অন্যদিকে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (এএওয়াই)। পিএইচএইচ শ্রেণির ক্ষেত্রে পরিবারের প্রতিটি সদস্য নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল বা গম পান। অন্যদিকে অন্ত্যোদয় পরিবারের জন্য সদস্যসংখ্যা নির্বিশেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ করা হয়।
কেন্দ্রের প্রস্তাবিত সংশোধনের ফলে এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সরকারের যুক্তি, সব ক্ষেত্রেই ব্যক্তিপিছু বরাদ্দের নিয়ম চালু করা হলে রেশন ব্যবস্থায় সমতা বজায় থাকবে। তবে সমালোচকদের দাবি, বাস্তবে এর ফলে বহু পরিবারের প্রাপ্ত খাদ্যশস্যের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এমন সময় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যখন সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনও কমেনি। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং আয় কমে যাওয়ার কারণে বহু পরিবার রেশনের উপর নির্ভরশীল। সেই পরিস্থিতিতে খাদ্যশস্যের বরাদ্দ কমানো হলে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
রেশন ডিলারদের সংগঠনও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাঁদের বক্তব্য, খাদ্যশস্যের পরিমাণ কমলে শুধু গ্রাহকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, রেশন দোকানগুলির আয়ও কমে যাবে। ফলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর্থিক চাপে পড়বেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে অন্ত্যোদয় প্রকল্পের আওতায় থাকা অধিকাংশ পরিবারে সদস্যসংখ্যা আগের ধারণার তুলনায় কম। তাই বর্তমান ব্যবস্থায় সরকারের অতিরিক্ত খাদ্যশস্য খরচ হচ্ছে। নতুন নিয়ম চালু হলে সরকারি ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে বলেও মনে করছে কেন্দ্র।
তবে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রশ্ন, সরকারি খরচ বাঁচানোর জন্য কি দেশের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের খাদ্য বরাদ্দ কমানো উচিত? তাঁদের অভিযোগ, একদিকে মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের সমস্যা বাড়ছে, অন্যদিকে গরিব মানুষের খাদ্য সুরক্ষায় কাটছাঁটের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এখন এই সংশোধনী বিল সংসদে উঠলে তা নিয়ে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বিষয়টি শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং দেশের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।


