বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে দু’জন হিন্দু নেতা মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন। তারা হলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং নিতাই রায় চৌধুরী। দু’জনেই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। জানা গেছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তাদের মধ্যে একজন স্পিকার পদেও বসতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি ঢাকা থেকে জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে দলের সহ-সভাপতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। দু’জনেই নিজ নিজ আসনে জামায়াতে ইসলামির প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকেও বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জয়ী হয়েছেন। তিনি মারমা সম্প্রদায়ভুক্ত এক বৌদ্ধ নেতা। পাশের রাঙামাটিতে চাকমা সম্প্রদায়ের দীপেন দেওয়ানও জয় পেয়েছেন। এদের জয় পার্বত্য অঞ্চলের জাতিগত বৈচিত্র্যকে সামনে এনেছে।
ভারতের কিছু রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের হিন্দুরা নিরাপদ নন, এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে নতুন মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকায় সেই অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকেরা মনে করছেন, সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি রাজনৈতিক বাস্তবতার অন্য দিক তুলে ধরছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে ১০ জন নারী। ২২টি রাজনৈতিক দল মোট ৬৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী দেয়, আর ১২ জন ছিলেন স্বতন্ত্র। কমিউনিস্ট পার্টি সর্বাধিক ১৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী দেয়। বিএনপি ছয়জন এবং জাতীয় পার্টি চারজন মনোনয়ন দেয়।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে জামায়াতে ইসলামি খুলনা-১ আসনে কৃষ্ণ নন্দী নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে প্রার্থী করেছিল। যদিও তিনি জয়ী হননি, তবুও এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে। সরকারি ফল অনুযায়ী, দলটি ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামিও উল্লেখযোগ্য আসন লাভ করেছে। সব মিলিয়ে নতুন সংসদে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।


