মধ্যপ্রদেশের ধর জেলায় অবস্থিত কামাল মাওলা মসজিদকে কেন্দ্র করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদালতে এই মামলার শুনানি আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি হবে। পূর্ব নির্ধারিত ১৬ ফেব্রুয়ারি শুনানি হওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ সেই দিনে আইনজীবীরা ধর্মঘট পালন করায় আদালত শুনানি পিছিয়ে দেয়।
স্থানীয় কিছু হিন্দু গোষ্ঠী এই মসজিদটিকে প্রাচীন মন্দির বলে দাবি করেছে। এ দাবি যাচাই করার জন্য আদালত অনুযায়ী পরিদর্শন এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। মুসলিম পক্ষের অভিযোগ, মসজিদটি ১১শ শতাব্দীর পুরনো হলেও সেখানে বহু বছর ধরে নিয়মিত নামাজ পড়া হয়। আদালতের নির্দেশে পুরাতত্ত্ব বিভাগের অধীনে মসজিদের সার্ভে করানো হলেও তার রিপোর্ট সিল করে রাখা হয়েছে।
১৯৯৩ সালে পাশ হওয়া ধর্মস্থান সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সব ধর্মীয় স্থান তাদের মূল অবস্থায় থাকবে। তবুও বিভিন্ন হিন্দু উগ্রবাদী গোষ্ঠী এই আইন উপেক্ষা করে মুসলিম ধর্মস্থানকে মন্দির দাবিতে তুলে ধরছে। মথুরা, জ্ঞানভাপী এবং আরও কয়েকটি মসজিদে এমন ধরণের অনুসন্ধান চালানো হয়েছে।
কামাল মাওলা মসজিদে বর্তমানে জুমার নামাজের জন্য অনুমতি আছে, একই সঙ্গে নির্দিষ্ট দিনে হিন্দু উপাসনার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এতে মসজিদ চত্বরে নামাজ, আরতি ও পূজার্চনা মিলিয়ে চলছে।
উল্লেখ্য, এখানে চিশতিয়া সুফি সাধক কামাল আলি দীন-এর মাজারও রয়েছে। মসজিদটি দিল্লির সুলতানি আমলে গভর্নর আয়ান আল মূলক মূলতনি নির্মাণ করেন। মসজিদের পাশে একসময় মাদ্রাসা চালু ছিল, যেখানে ছাত্রদের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা থাকতো। হিন্দু গোষ্ঠীর দাবি, এই ভোজশালার জায়গায় এখন সরস্বতী মন্দির রয়েছে।


