উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার দিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল জুয়েল শেখ। পরিবারের সবার দোয়া ছিল তার সঙ্গে। সামনে ছিল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, আর সেই পরীক্ষার স্বপ্ন নিয়েই সে রওনা দেয় পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় এই ছাত্র।
মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার জয়পুর এলাকায়। জুয়েলের বাড়ি বিক্রমপুর গ্রামে। জানা গিয়েছে, সোমবার তার ভূগোল পরীক্ষা ছিল। সে মোটরবাইক চালিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল জয়পুর হাইস্কুল। পথে প্রসাদপুর এলাকায় পৌঁছতেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যান তার বাইকে ধাক্কা মারে।
স্থানীয়দের দাবি, ভ্যানটিতে বিদ্যুতের কংক্রিটের খুঁটি বোঝাই ছিল। ধাক্কার জেরে একটি খুঁটি সোজা এসে জুয়েলের বুকে লাগে। গুরুতর আঘাতে সে রাস্তায় পড়ে যায়। আশপাশের মানুষ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জয়পুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র-এ নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। দুই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে বিষ্ণুপুর-আরামবাগ রাজ্য সড়ক এবং পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে অবরোধ করেন। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল। তা সত্ত্বেও কীভাবে এত বড় বোঝাই ভ্যান রাস্তায় চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চালক পলাতক। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। একমাত্র ছেলের অকালমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার। যে সকালে স্বপ্ন নিয়ে বেরিয়েছিল, সেই দিনই শেষ হয়ে গেল এক তরুণ প্রাণের যাত্রা।


