উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক অশান্তির ঘটনায় আরও অগ্রগতি হল। পুলিশ জানিয়েছে, ইত্তেহাদ-ই-মিল্লাত কাউন্সিলের সভাপতি ও ধর্মীয় নেতা মৌলানা তৌকির রাজার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোট ১০টি মামলার মধ্যে ৭টিতে তদন্ত শেষ করে আদালতে নথি পেশ করল পুলিশ। বেরিলির পুলিশ সুপার অনুরাগ আর্য জানান, আগেই চারটি মামলায় চার্জশিট জমা হয়েছিল। মঙ্গলবার ক্যান্টনমেন্ট, কিলা ও প্রেম নগর থানার তিনটি মামলায় নতুন করে চার্জশিট দেওয়া হয়। এই সব কটি মামলাতেই মৌলানা তৌকির রাজার নাম অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ওই অশান্তির পিছনে পরিকল্পনা ছিল। অভিযোগ, মৌলানা তৌকির রাজা ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে লোক জড়ো করে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে হামলার উসকানি দেন। তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাফিস খান, প্রাক্তন জেলা সভাপতি নদীম খান এবং মুনির ইদ্রিসি-সহ আরও কয়েকজন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেরিলির বিভিন্ন এলাকায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। কানপুরে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টার ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রভাব এই জেলায় এসে পড়ে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বেরিলির অন্তত পাঁচটি এলাকায় ইট-পাটকেল ছোড়া, গুলি চালানো এবং দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় মোট ১০টি এফআইআর দায়ের করা হয়। কোটওয়ালি থানায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার রাতেই মৌলানা তৌকির রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নিরাপত্তার কারণে তাকে ফতেহগড় জেলে পাঠানো হয়। এখনও তার কয়েকজন সহযোগী ও প্রায় ৯০ জন অভিযুক্ত জেল হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি তিনটি মামলার তদন্ত চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা হেফাজতেই থাকবেন।


