তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন বহু নেতা-কর্মী। আর এই পরিস্থিতিতেই নতুন সমস্যার মুখে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি। কাকে দলে নেওয়া হবে আর কাকে নেওয়া হবে না, তা নিয়েই এখন দলের অন্দরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘ভালো’ এবং ‘খারাপ’ তৃণমূল নেতার মধ্যে পার্থক্য কীভাবে করা হবে, সেই প্রশ্নেই ধন্দে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের জটিল পরিস্থিতির মুখে খুব কমই পড়েছে বঙ্গ বিজেপি। একদিকে দলের বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্য, অন্যদিকে পুরনো কর্মীদের ক্ষোভ— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতা ও কর্মীরা ইতিমধ্যেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। শুধু সাধারণ কর্মী নন, শাসকদলের একাধিক পরিচিত মুখও গেরুয়া শিবিরে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু শুরুতেই বিজেপির তরফে জানানো হয়েছিল, আপাতত দল বদলের জন্য দরজা পুরোপুরি খোলা হচ্ছে না। এই অবস্থান প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দলের ভিতরে-বাইরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে কিছুটা নরম সুরে কথা বলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দলকে ‘তৃণমূলময়’ হতে দেওয়া হবে না। তবে যাঁরা সত্যিই ভালো ভাবমূর্তি নিয়ে আসতে চান, তাঁদের জন্য দরজা খোলা থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর এই মন্তব্যের পরেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, কোন নেতাকে ‘ভালো’ বলা হবে আর কাকে ‘খারাপ’, সেই মাপকাঠি এখনও স্পষ্ট নয়।
দলের একাংশ মনে করছে, তৃণমূলের কিছু প্রভাবশালী নেতাকে দলে না নিলে সংগঠনের শক্তি বাড়ানো কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে বড় মুখদের যোগদান রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন। আবার অন্য অংশের দাবি, অতিরিক্ত দলবদল হলে পুরনো বিজেপি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা কর্মীরা নিজেদের গুরুত্ব হারানোর আশঙ্কা করছেন।
এই কারণেই এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য বিজেপি। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে দলের কোর কমিটির বৈঠক হতে পারে। প্রয়োজন হলে জেলা ও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মতামতও নেওয়া হবে। বিজেপি চাইছে, ভবিষ্যতে অন্য দল থেকে কাউকে নেওয়ার আগে একটি স্পষ্ট নীতি তৈরি করতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত বিজেপির সংগঠন ও নির্বাচনী কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো না করে সবদিক ভেবেই এগোতে চাইছে গেরুয়া শিবির।


