দক্ষিণবঙ্গে তীব্র গরম ও গুমোট গরমের অস্বস্তির মাঝেই এবার স্বস্তির খবর শোনাল আবহাওয়া দফতর। আজ শুক্রবার বিকেলের পর থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভিজতে পারে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু এলাকাও। এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে বাংলা ও ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত উত্তাল হতে পারে। সমুদ্রের ভেতরে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বওয়ার আশঙ্কায় আগামী ২৪ ঘণ্টা মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখার ফলেই বায়ুমণ্ডলে এই ওলটপালট শুরু হয়েছে। এর জেরে আজ বিকেলের পর দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে থাকবে বজ্রপাতের চরম আশঙ্কা। শনিবারও কিছু জেলায় এই বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি বজায় থাকবে, তবে রবিবার থেকে এর তীব্রতা কমবে এবং জুন মাসের শুরুতেই রাজ্যে ফের গরমের দাপট বাড়বে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের মালদহ ও দুই দিনাজপুরেও ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তীব্র দাবদাহ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় রাজ্য যখন বিপর্যস্ত, তখন কেন্দ্র সরকারের বিমাতৃসুলভ আচরণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের সঠিক বণ্টন না করার নীতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিজেপি শাসিত কেন্দ্র আমজনতার এই চরম সংকটের দিনেও ত্রাণ বা পরিকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা করার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই বেশি ব্যস্ত থাকে। ফলে প্রতিবারই রাজ্যের ওপর বাড়তি আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।


