উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে শিক্ষা দফতরের এক অদ্ভুত নির্দেশ ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, এলাকার গরু আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ভবঘুরে গবাদি পশুর জন্য খড় সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ব্লক শিক্ষা আধিকারিকদের। শুধু তাই নয়, সেই কাজের চাপ গিয়ে পড়ে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের উপরও। বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে শিক্ষক মহলে।জানা গিয়েছে, বেরেলির শিক্ষা আধিকারিক বিনীতা সিংহ চলতি মাসের শুরুতে জেলার ১৫ জন ব্লক শিক্ষা আধিকারিককে নির্দেশ দেন মোট ১,৫০০ কুইন্টাল খড় সংগ্রহ করতে। প্রত্যেক আধিকারিককে নিজেদের এলাকা থেকে অন্তত ১০০ কুইন্টাল খড় জোগাড় করার কথা বলা হয়। পরে নবাবগঞ্জ ব্লকের শিক্ষা আধিকারিক সত্যদেব একটি চিঠি জারি করেন। সেই চিঠিতে শিক্ষকদের সাত দিনের মধ্যে খড় সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি কাজ না হলে বিভাগীয় তদন্তের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।নির্দেশ অনুযায়ী, নবাবগঞ্জ এলাকার প্রতিটি স্কুলকে ৪৬ কেজি করে খড় ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক অথবা পশু চিকিৎসা দফতরে জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই চিঠি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনা।শিক্ষকদের একাংশের দাবি, পড়াশোনার কাজ ছেড়ে এ ধরনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া অত্যন্ত অপমানজনক। সরকারি স্কুলের শিক্ষক ভানু প্রতাপ সিংহ বলেন, “আমরা কি পড়ুয়াদের পড়াব, নাকি খড় সংগ্রহ করব? আজ খড় আনতে বলা হচ্ছে, কাল হয়তো অন্য কাজও করতে বলা হবে। এ ভাবে চলতে পারে না।”তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের উপর আগেই বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের চাপ রয়েছে। এখন জনগণনার কাজও চলছে। তার মধ্যে আবার এ ধরনের দায়িত্ব দিলে পড়াশোনার ক্ষতি হবে।আর এক শিক্ষিকা রীতা বাত্রার কথায়, “শিক্ষকরা যদি এই সব কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াবেন কখন? এতে শিক্ষকদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।”শিক্ষক রমেশ মৌর্যও একই সুরে বলেন, পেশার মর্যাদার সঙ্গে যায় এমন কাজ তাঁরা করবেন, কিন্তু এই নির্দেশ সীমা ছাড়িয়েছে। বিতর্ক বাড়তেই প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা নিজেদের দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। বেরেলির জেলাশাসক অবিনাশ সিংহ জানান, এই নির্দেশ সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। প্রথমে নির্দেশকে সমর্থন করলেও পরে ব্লক শিক্ষা আধিকারিক সত্যদেব আর একটি চিঠি দিয়ে জানান, খড় দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ।
Popular Categories


