বাংলা ভাষায় কথা বলাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত যুবকের নাম শেখ সইদুল্লা (৩২)। তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুর থানার গোপালনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের দেওয়ানভেড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় সোনার গয়নার কারিগর সইদুল্লা দীর্ঘদিন ধরে উত্তরপ্রদেশের অরাইয়া থানার এলাকায় একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজের সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি উত্তরপ্রদেশেই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। সম্প্রতি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একটি শুনানির নোটিশ সইদুল্লা ও তার স্ত্রীর নামে গ্রামে পৌঁছায়। সেই কারণে স্ত্রী ও সন্তান দু’দিন আগে বাংলায় ফিরে আসেন। ১৭ জানুয়ারি তার স্ত্রীর শুনানি ছিল এবং ১৯ জানুয়ারি সইদুল্লার হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। সেই উদ্দেশ্যেই সইদুল্লার গ্রামে ফেরার কথা থাকলেও আর ফেরা হল না।গত ১৪ জানুয়ারি অরাইয়ার ভাড়া বাড়ি থেকে সইদুল্লার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তে খুনের ইঙ্গিত মেলে। শুক্রবার সকালে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় কফিনবন্দি দেহ সিঙ্গুরে তার বাড়িতে আনা হয়। মৃতদেহ পৌঁছনোর পর শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়।খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন হরিপালের বিধায়ক করবী মান্না। তিনি বলেন, ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বহু বাঙালি শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভাষা ও পরিচয়ের কারণে তাদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।নিহতের স্ত্রী আরমিনা বেগম জানান, স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে সইদুল্লার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তার অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার কারণে সইদুল্লাকে বাংলাদেশি সন্দেহ করে দীর্ঘদিন ধরে হেনস্থা করা হচ্ছিল। পরিবারের লোকজন না থাকায় সুযোগ নিয়ে তাকে খুন করা হয়েছে।মৃতের বাবা শেখ আশরাফের কথায়, সংখ্যালঘু পরিচয়ের কারণেই তার ছেলেকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এই ঘটনার পর ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে নৃশংস খুনের অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার কারনে প্রাণ গেল সিঙ্গুরের পরিযায়ী শ্রমিক সইদুল্লার !
Popular Categories


