বেঙ্গালুরুতে ফের আইনি ঝামেলায় জড়ালেন হিন্দুত্ববাদী কর্মী পুনীত কেরেহাল্লি। খুনের মামলায় অভিযুক্ত এই কর্মীর বিরুদ্ধে এবার ভুয়ো ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে নতুন মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি কর্নাটকের পুলিশ মহাপরিচালক ও আইজিপি এম এ সলিমকে নিয়ে ভুয়ো তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুনীত কেরেহাল্লি দাবি করেছিলেন যে আইজিপি এম এ সলিমের নামে একটি ‘বেনামি’ সম্পত্তি রয়েছে এবং সেখানে নাকি অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় শুক্রবার সাইবার ক্রাইম থানায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করা হয়।
এই মাসেই একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন কেরেহাল্লি। তার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে এই মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারাগুলি মূলত সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো, জনশান্তি বিঘ্নিত করা এবং জাতীয় সংহতির ক্ষতি করার সঙ্গে যুক্ত।
এফআইআর অনুযায়ী, পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল একটি ভিডিওর খোঁজ পায়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, পুনীত কেরেহাল্লি কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সোলাদেবানাহাল্লির একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। বাড়িটি সাকিনা তাসলিম নামে এক মহিলার। সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি ওই বাড়িকে আইজিপির বেনামি সম্পত্তি বলে দাবি করেন এবং অবৈধ অভিবাসীদের থাকার কথা বলেন। ওই ভিডিও তিনি লাইভ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
পুলিশের বক্তব্য, এই ভিডিওর মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সন্দেহ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। এতে সমাজে অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আগেও একাধিক ভিডিওতে কেরেহাল্লিকে রাতের বেলা শ্রমিক কলোনিতে ঢুকে মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করতে দেখা গেছে। আধার কার্ড দেখাতে চাপ দেওয়া এবং মুসলিম শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই সব কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


