বিহারের গোপালগঞ্জ জেলায় উগ্র জনতার হাতে নির্যাতনের এক ভয়াবহ ছবি সামনে এসেছে। অভিযোগ, গরু নিয়ে যাওয়ার সন্দেহ এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নির্যাতিত ব্যক্তির নাম আহমেদ আজাদ। তিনি সিওয়ান জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মোটরবাইকে করে যাওয়ার সময় একদল লোক তাকে রাস্তায় আটকে দেয়। কোনও সরকারি পরিচয় বা আইনি অনুমতি ছাড়াই তারা আজাদের ব্যাগ ও জিনিসপত্র তল্লাশি করে। সেই সময় তারা দাবি করে, একটি বাক্সে নিষিদ্ধ মাংস পাওয়া গেছে। এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
স্থানীয়দের বক্তব্য, আজাদকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং ঠান্ডার মধ্যেই তাকে মারধর করা হয়। হামলার সময় আজাদ সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, “এই দৃশ্য দেখে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি।” এলাকার মুসলিম বাসিন্দারা জানান, এই ধরনের ঘটনা তাদের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। “
তবে শুধু মুসলিম সমাজ নয়, বহু সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষও এই ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আইন হাতে তুলে নেওয়া কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশের ভূমিকা আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল।”
এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আজাদকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে হামলাকারীদের কেন সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হয়নি, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি। এই ঘটনায় নীতীশ কুমারের শাসনাধীন বিহারে গোরক্ষার নামে হিংসার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন উঠছে নানান মহলে।


