উত্তর বিহারের পূর্ণিয়া জেলার এক সাধারণ যুবক আজ তার উদ্ভাবনী ক্ষমতার জোরে আলোচনায়। নাম মুরশিদ আলম। কোনও বড় ডিগ্রি নেই, নেই প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বা স্টার্টআপের অভিজ্ঞতা। জীবিকা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাটো গাড়ি সারানোর কাজই করে এসেছেন। কিন্তু সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই যে বড় ভাবনা জন্ম নিতে পারে, সেটাই প্রমাণ করলেন মুরশিদ।
গ্রামের রাস্তায় প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত টোটো চলতে দেখে তার মনে প্রশ্ন জাগে, কম খরচে মালপত্র বহনের জন্য কেন এমন কোনও বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি হবে না। ডিজেল ও পেট্রোলের দাম ক্রমশ বাড়তে থাকায় কৃষক ও সবজি বিক্রেতাদের পরিবহণ খরচ যে অসহনীয় হয়ে উঠছে, তা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে নতুন পথ খুঁজতে অনুপ্রাণিত করে।
মাত্র ১৮ দিনের চেষ্টায় মুরশিদ তৈরি করে ফেলেন পাঁচ আসনের একটি বৈদ্যুতিক জিপ। তার নিজের দোকান ও সংলগ্ন গ্যারেজই ছিল এই কাজের প্রধান ভরসা। গাড়িটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে টিউববিহীন চারটি চাকা, স্পিডোমিটার, পাওয়ার সিস্টেম এবং সাধারণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ। মাল বহনের প্রয়োজন হলে আলাদা ট্রলি জোড়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এই গাড়ি সম্পূর্ণ চার্জ হতে সময় নেয় প্রায় চার ঘণ্টা। একবার চার্জ দিলে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ চলতে পারে বলে দাবি মুরশিদের। যদি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়, তাহলে দাম এক লক্ষ টাকার মধ্যেই রাখা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। দেশজুড়ে যখন ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের দিকে ঝোঁক বাড়ছে, তখন মুরশিদের মতো গ্রামীণ উদ্ভাবকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, প্রশাসন ও সরকারের সহায়তা পেলে এমন প্রতিভা শুধু নিজের নয়, গোটা সমাজের উপকারে আসতে পারে।


