ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় চমক দেখা গেল। কার্শিয়াং কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা দল ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূলে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় তৃণমূলের দফতরে তার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন দলের নেতা শশী পাঁজা ও ব্রাত্য বসু। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
উত্তরবঙ্গকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি বলে দাবি করে আসছে বিজেপি। সেই এলাকায় এক বিধায়কের দলত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি তৈরি করেছে গেরুয়া শিবিরে। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, একজন বিধায়ক দল ছাড়ায় সংগঠনের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না।
দলবদলের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিষ্ণু প্রসাদ বলেন, তিনি মানুষের কল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তার কথায়, ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং উন্নয়নের স্বার্থেই নতুন দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা বলেন, অনেক দিন ধরেই বিষ্ণু প্রসাদ বিজেপিতে অখুশি ছিলেন। বিধানসভায় অন্য বিজেপি বিধায়কেরা ওয়াকআউট করলেও তিনি প্রায়শই আসনে বসে থাকতেন বলেও দাবি করেন তিনি। শশী আরও জানান, কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে মানুষের সমস্যা তিনি কাছ থেকে বুঝতে পারেন।
বিষ্ণু প্রসাদ বলেন, তিনি বিধানসভার অধিবেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন, যাতে ভোটারদের প্রতি অসম্মান না হয়। এরপরই নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, কেন্দ্রের কাছ থেকে প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় উন্নয়নের কাজে সমস্যা হচ্ছিল। এছাড়া এসআইআর নিয়ে তিনি আগেই আপত্তি তুলেছিলেন। তার মতে, এই প্রক্রিয়ায় পাহাড়ের বহু সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন।
অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, অতীতে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ে খুব বেশি সমর্থন পাননি বিষ্ণু প্রসাদ। তাই এই দলবদলে বড় কোনও রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে না বলেই তার মত।


