বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল থানার সামনে রাতভর ধরনায় বসলেন গোপীবল্লভপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতো। ধরনা তুলতে গিয়ে তাঁর উপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে গোপীবল্লভপুর বিধানসভার সাঁকরাইল ব্লকের ধানঘড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোরাকাটি গ্রামে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। বিজেপির দাবি, দলীয় পতাকা বাঁধতে গেলে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের উপর চড়াও হয়ে মারধর করে।
ঘটনায় মনোজ মাহাতো নামে এক বিজেপি কর্মী আহত হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সাঁকরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ বিজেপির।
এর প্রতিবাদে প্রচার শেষ করে রাতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানার সামনে ধরনায় বসেন রাজেশ মাহাতো। রাতভর সেই ধরনা চলতে থাকে।
রাজেশ মাহাতোর অভিযোগ, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ধরনা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে লাঠিচার্জ করে। যিনি এই বাহিনী পাঠিয়েছেন, তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে।” তিনি জানান, পুরো ঘটনার অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতো অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, বিজেপি জনসমর্থন হারিয়ে রাজনৈতিক নাটক করছে। সাঁকরাইল ব্লক তৃণমূল সভাপতি কমলকান্ত রাউয়ের দাবি, দলীয় পতাকা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা হলেও মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার রাতেই দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়। ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরে শুক্রবার সকালে গোপীবল্লভপুর বিধানসভার পুলিশ অবজারভার রোহিত মালপানির আশ্বাসে বিজেপি প্রার্থী ধরনা প্রত্যাহার করেন।


