নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএলও-র প্রধান জীবন সিংহ-এর একটি ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ওই ভিডিয়োতে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, উত্তরবঙ্গে রাজনৈতিক জমি দুর্বল হয়ে পড়ায় বিজেপি এখন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার সমর্থনকেও ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভিডিয়ো বার্তায় নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ-এর হাত শক্ত করতে ২৩ এপ্রিল বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাতে শোনা যায় জীবন সিংহকে। তবে ভিডিয়োটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে জীবন সিংহের গোষ্ঠীর মধ্যেই দেখা দিয়েছে তীব্র মতভেদ। তাঁর সংগঠন ঘনিষ্ঠ দল কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল (কেএসডিসি) উত্তরবঙ্গের একাধিক আসনে পৃথকভাবে প্রার্থী দিয়েছে। ওই প্রার্থীদের অনেকেই বিজেপিকে সমর্থনের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করেছেন।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের কেএসডিসি প্রার্থী অষ্টমী রায় সিংহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা কাউকে সমর্থন করবেন না এবং নিজেদের মতো করেই নির্বাচনী লড়াই চালাবেন। কোচবিহার দক্ষিণের প্রার্থী অনন্ত বর্মনের অভিযোগ, জীবন সিংহকে চাপের মুখে এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়ে থাকতে পারে।
বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি তথা ফালাকাটার প্রার্থী দীপক বর্মন বলেন, জীবন সিংহ আত্মসমর্পণ করেছেন, তাই তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলা ঠিক নয়। তিনি কাকে সমর্থন করবেন, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বিদায়ী মন্ত্রী তথা দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ তোপ দেগে বলেন, উত্তরবঙ্গে জমি হারিয়ে বিজেপি এখন যাকে পাচ্ছে তাকেই আঁকড়ে ধরছে। তাঁর দাবি, রাজবংশী সমাজ তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে।
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মন বলেন, জীবন সিংহের বক্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
এদিকে রাজবংশী সমাজের একাধিক সংগঠন কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, জীবন সিংহ মূলধারায় ফিরলেও এখনও শান্তি আলোচনা শুরু হয়নি এবং দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া নিয়েও কেন্দ্র নীরব রয়েছে।


