তোলাবাজি ও জরিমানা নিয়ে এখন বিজেপির অন্দরেও অসন্তোষ বাড়ছে। বিভিন্ন জেলায় দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠছে। দলের পুরনো নেতাদের একাংশও প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। অভিযোগ, কারও সম্পত্তি ও আর্থিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে তারপর টাকা দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দলের গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
মন্তেশ্বর, বর্ধমান, জামালপুর ও কালনায় দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় প্রভাব ও আর্থিক সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করাই এই সংঘাতের মূল কারণ।
বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য জানিয়েছে, দলের নির্দেশ অমান্য করে তোলাবাজি বা বেআইনি কাজে যুক্ত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই কয়েকজন অভিযুক্ত নেতাকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ প্রমাণিত হলে বহিষ্কার, এমনকি আইনি ব্যবস্থারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দল।
তৃণমূলের শাসনকালে কোন নেতা কত সম্পত্তি করেছেন, সেই অর্থের উৎস কী—এসব তথ্য সংগ্রহ করতে বিজেপির কিছু নেতা ব্যক্তিগতভাবে লোক নিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই তথ্যের ভিত্তিতেই এলাকায় টাকা আদায়ের অঙ্ক ঠিক করা হচ্ছে। পরে সম্পত্তির হিসেব জানিয়ে ব্যবসায়ী বা বিত্তশালী ব্যক্তিদের ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
এক সমাজকর্মীর দাবি, তৃণমূল আমলেও তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। তবে সরাসরি কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনা তুলনামূলক কম শোনা গিয়েছে। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এক বিজেপি নেতা তাঁর কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করেন তিনি।


