দুর্গাপুজোর আগে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পথে নামলেন রাজ্যের সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষকদের একাংশ। সোমবার প্রায় এক হাজার শিক্ষক বিকাশ ভবনের দিকে মিছিল করেন। ভবনের কাছে পৌঁছনোর আগেই পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ শুরু করেন তাঁরা। চাকরির নিশ্চয়তা এবং তাঁদের কাজের দায়িত্ব সরকারের হাতে নেওয়ার দাবিতে চলে বিক্ষোভ।
পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল থামানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের একাংশ ব্যারিকেড সরিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেন। কেউ রাস্তায় শুয়ে পড়েন, আবার কেউ থালা বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন স্কুলে কাজ করার পর হঠাৎ চুক্তি শেষ করে দিলে বহু শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার আর্থিক সমস্যায় পড়বেন।
জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের আগে ও পরে কয়েক দফায় বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে তিন হাজারের বেশি কম্পিউটার শিক্ষককে পাঁচ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই চুক্তির মেয়াদ বিভিন্ন সময়ে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির তরফে নতুন করে নোটিস দেওয়া হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কাছে জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
স্কুলগুলিতে কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়োগ অবশ্য নতুন বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই চুক্তিভিত্তিকভাবে এই কাজ চলছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে আগের কয়েক দফায় নিযুক্ত কর্মীদের ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালের আশপাশে ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা করা হয়নি।
শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, গত কয়েক মাসে তাঁদের মাসিক পারিশ্রমিকও কমেছে। সরকারি নিয়মে পরিবর্তনের কারণ দেখিয়ে সংস্থাগুলি প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন কমিয়েছে বলে তাঁদের দাবি। এবার চুক্তি শেষের নোটিসে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
শিক্ষকদের বক্তব্য, তাঁদের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে শুধু পরিবারগুলিই সমস্যায় পড়বে না, স্কুলগুলিও বিপাকে পড়বে। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণ, বিভিন্ন অনলাইন কাজ এবং সরকারি প্রকল্পের নথিপত্র তৈরির মতো বহু দায়িত্ব কম্পিউটার শিক্ষকদের উপর নির্ভরশীল।
‘শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ’-এর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, আগের ধাঁচে এই শিক্ষকদেরও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আনার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার পরিবর্তে সরকারের সরাসরি দায়িত্ব নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, স্কুলের দৈনন্দিন কাজে এই শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে তাঁদের হঠাৎ সরিয়ে দিলে শিক্ষা ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হতে পারে।


