গণতান্ত্রিক দেশে স্বাস্থ্যের অধিকার যেমন ব্যক্তিগত, তেমনই ছুটির দিনটি উপভোগ করাও কর্মচারীদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। কিন্তু বর্তমান বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার যেন সেই সাধারণ অধিকারটুকুও কেড়ে নিতে মরিয়া। আগামী ২১ জুন ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ উপলক্ষে এক নজিরবিহীন ও স্বৈরাচারী নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওই দিন রাজ্যের সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারীদের যোগব্যায়ামে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, খোদ ছুটির দিনেও সরকারি কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো এক প্রকার বাধ্যতামূলক ডিউটি।
আগামী রবিবার সকাল ৬.৩০টা থেকে ৭.৪৫টা পর্যন্ত রাজ্যের সব স্থায়ী, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদেরও এই অনুষ্ঠানে হাজির থাকার নিদান দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের সই করা এই বিজ্ঞপ্তির পর স্বভাবতই ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, যেখানে সপ্তাহে মাত্র একটা দিন মানুষ পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পান, সেখানে কেন যোগাসনের মতো একটি ব্যক্তিগত বিষয়কে সরকারি নির্দেশের নামে জোর করে ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে? রবিবারের এই অনুষ্ঠানকে আসলে বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবেই দেখছেন অনেকে। জানা গিয়েছে, কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই মেলা বসতে চলেছে, আর সেখানেই ভিড় বাড়াতে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে সরকারি কর্মীদের।
একদিকে যখন সরকারি বকেয়া ডিএ বা নিয়মিতকরণের মতো জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনো হেলদোল নেই, তখন এই একদিনের উৎসবের জন্য টেন্ডার ডেকে কোটি কোটি টাকা ওড়ানোর বন্দোবস্ত পাকা করা হয়েছে। শিল্পোন্নয়ন নিগমের ডাকা টেন্ডার অনুযায়ী, ম্যারাথন, কার্নিভাল, ড্রোন শো এবং ফুড কোর্টের নামে বিপুল রাজকীয় খরচের খতিয়ান সামনে এসেছে। প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের এলাহি আয়োজন করতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। আমজনতার করের টাকায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে কাজ করার বদলে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা পূরণ এবং প্রচারের আলো কাড়তেই যে কর্মচারীদের এই রবিবাসরীয় ‘ফরমান’ জারি করা হয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন।


