ভোটের আগে উত্তর কলকাতার বরানগর এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অভিযোগ-প্রতিআভিযোগের মাঝেই এবার সামনে এল বিজেপির অন্দরের দ্বন্দ্ব। একদিকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ, অন্যদিকে নিজেদের দলের কর্মীর উপরই হামলার অভিযোগ—সব মিলিয়ে অস্বস্তিতে বিজেপি শিবির।
সোমবার রাতে বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বরানগর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই তিনি থানার সামনে অবস্থান নেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
কিন্তু একই সময়ে আরও একটি ঘটনা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। অভিযোগ, বরানগরের গোপাল লাল ঠাকুর রোড এলাকায় বিজেপির এক পুরনো কর্মী রাজীব মিশ্রের উপর হামলা হয়েছে। তিনি স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত। তাঁর দাবি, বিজেপিরই কিছু নতুন কর্মী তাঁকে লক্ষ্য করে মারধর করে এবং রাস্তায় তাড়া করে আক্রমণ চালায়।
আহত রাজীব মিশ্র জানান, তিনি ওই দিন এলাকায় একটি পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানে কিছু কর্মীর মধ্যে বচসা চলছিল। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে হঠাৎই কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা সবাই বিজেপিরই কর্মী এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি চেনেনও।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির সংগঠনের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে। ভোটের মুখে এই ধরনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বরানগর কেন্দ্রটি আগেও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত।
ভোটের আগে বরানগরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দলের ভিতরের বিবাদ ও বাইরে রাজনৈতিক সংঘাত—দুই দিকেই চাপের মুখে পড়েছে বিজেপি।


