উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভ ঘিরে সোমবার ব্যাপক অশান্তির ছবি সামনে আসে। ন্যায্য মজুরি ও কাজের পরিবেশের দাবিতে রাস্তায় নামেন বহু শ্রমিক। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, শুরুতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি সরকার।
শ্রমিকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা কম বেতন ও অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশের রাজ্য হরিয়ানায় মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর থেকেই নয়ডার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। তাঁদের দাবি, একই ধরনের কাজ করেও উত্তরপ্রদেশে কম মজুরি পাওয়া অন্যায্য।
সোমবার সকাল থেকে বিক্ষোভ চরমে ওঠে। একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ করা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। কিছু এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সামনে আসে। পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয় পুলিশকে।
এই অবস্থায় বিরোধীদের অভিযোগ, শ্রমিকদের সমস্যা আগে থেকেই জানা থাকলেও তা গুরুত্ব দেয়নি সরকার। ফলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়েছে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগও তোলা হয়েছে। চাপের মুখে পড়ে রাতেই তড়িঘড়ি বৈঠকে বসে কেন্দ্র সরকার। শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানানো হয়েছে, অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা শ্রমিকদের বেতনে প্রায় ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে এবং নতুন কাঠামো এপ্রিল মাস থেকেই কার্যকর হবে।
তবে বিরোধীদের দাবি, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে থেকেই যদি উদ্যোগ নেওয়া হত, তাহলে এত অশান্তি এড়ানো যেত। শ্রমিকদের একাংশও মনে করছেন, তাঁদের দাবি আগে গুরুত্ব পেলে এমন সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হত না। নয়ডার এই ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিল শ্রমিক নীতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। আপাতত মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, ক্ষোভ পুরোপুরি মিটেছে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।


