গত সোমবার, ৩০ জুন, ভুবনেশ্বর পৌরসভায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পৌরসভার অতিরিক্ত কমিশনার রত্নাকর সাহুকে একদল লোক তার কার্যালয় থেকে টেনে বের করে নির্মমভাবে মারধর করে। এই দলের মধ্যে বিজেপির এক কর্পোরেটরও ছিলেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সাহুকে লাথি মারা হচ্ছে এবং সিঁড়ি দিয়ে টেনে নামানো হচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে যে কারোরই মন কেঁপে উঠবে।
সাহু জানান, সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে তিনি জনগণের অভিযোগ শুনছিলেন। হঠাৎ পাঁচ-ছয় জন তার ঘরে ঢুকে পড়ে। তাদের মধ্যে কর্পোরেটর জীবন রাউত ছিলেন। তারা জানতে চায়, সাহু কি বিজেপি নেতা জগন্নাথ প্রধানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। সাহু না বলতেই তারা তাকে ধরে টানতে শুরু করে, মারধর করে এবং একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনার পর পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন জীবন রাউত, রশ্মি মহাপাত্র এবং দেবাশিস প্রধান। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিজেডি কর্পোরেটর ও পৌরসভার কর্মীরা জনপথ রোডে অবরোধ করে। ওডিশা প্রশাসনিক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও ১ জুলাই থেকে গণছুটির ডাক দিয়েছে।
মেয়র সুলোচনা দাস বলেন, এখানে কেউ নিরাপদ নয়। একজন কর্মকর্তাকে এভাবে আক্রমণ করা হত্যাচেষ্টার সমান। নবীন পট্টনায়েক এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, একজন কর্মকর্তা যদি অফিসে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে? তিনি মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির কাছে কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।
কংগ্রেস বিধায়কও এই হামলার নিন্দা করে বলেন, এটি প্রশাসনের উপর আঘাত। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। এ ঘটনা ওডিশার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। সবাই চায়, দোষীদের শাস্তি হোক।


