রাজ্যে দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকাকে ঘিরে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এল। প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখে দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্র্যাটিক রাইটস (এডিআর)। সোমবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, দ্বিতীয় দফায় মোট ১৪৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশ প্রার্থী নিজেদের হলফনামায় জানিয়েছেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও ফৌজদারি মামলা চলছে। সংখ্যার হিসেবে এই সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩৩৮ জন।
এর মধ্যেই উদ্বেগের বিষয় হল, গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যাও কম নয়। প্রায় ২৯৫ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা-সহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। খুনের অভিযোগে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানা গেছে। আবার খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে প্রায় ৮০ জনের বিরুদ্ধে। এছাড়াও মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় জড়িয়ে থাকা প্রার্থীর সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। মোট ৯৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন প্রার্থী ধর্ষণ বা একই মহিলাকে বারবার ধর্ষণের অভিযোগের কথা নিজেরাই হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
দলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, সম্পদের নিরিখেও বেশ কিছু তথ্য সামনে এসেছে। দ্বিতীয় দফায় মোট ৩২১ জন কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ১০৩ জন, বিজেপির ৭৩ জন এবং কংগ্রেসের ৩৬ জন। আরও একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হল, সব প্রার্থীই উচ্চশিক্ষিত নন। অন্তত ১৬ জন প্রার্থী নিজেদের নিরক্ষর বলে উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রার্থীদের প্রেক্ষাপট নিয়ে এই পরিসংখ্যান নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা উসকে দিয়েছে। ভোটারদের সামনে প্রার্থীদের অতীত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তুলে ধরতেই এই ধরনের বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


