মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকায় সোমবার এক বিশাল রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে চোখে পড়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে মানুষজন রাস্তায় নামতে শুরু করেন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোটা শহর এবং আশপাশের গ্রামাঞ্চল যেন মানুষের ভিড়ে ঢেকে যায়। চার কিলোমিটার দীর্ঘ পথজুড়ে শুধুই মানুষের ঢল, লাল পতাকা, স্লোগান আর গান—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়।
মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকায় সোমবার সিপিএম-এর কর্মসূচি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো ছিল। যত সময় করাতে থাকে আশেপাশের গ্রাম থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকে সিপিএমের ভোট প্রচারের কর্মসূচিতে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোটা শহর এবং আশপাশের গ্রামাঞ্চল মানুষের ভিড়ে ঢেকে যায়। চার কিলোমিটার দীর্ঘ পথজুড়ে শুধুই মানুষের ঢল, লাল পতাকা, স্লোগান এবং গান, সব মিলিয়ে যেন ফের ২০১১ পূর্ববর্তী সিপিএমের ভোট মিছিল দেখলো বঙ্গবাসী।
এই কর্মসূচি ছিল সিপিএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের সমর্থনে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত লক্ষণীয়। অনেকেই বলছেন, বহুদিন পর এমন বড় সমাবেশ দেখা গেল। ডোমকলের বাসিন্দা আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, এত বড় মিছিল আবার দেখতে পাবেন ভাবেননি। তাঁর মতে, এই ভিড় মানুষের মনে নতুন করে সাহস জোগাচ্ছে।
মিছিলের সময় শহরের প্রধান রাস্তাগুলি প্রায় অচল হয়ে পড়ে। দোকানপাট, যানবাহন সবকিছুই থমকে যায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসে যোগ দেন এই কর্মসূচিতে। শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, বহু পরিযায়ী শ্রমিকও এই সময় বাড়ি ফিরেছেন ভোটে অংশ নিতে।
জানা গেছে, প্রায় ৪৫ হাজারের মতো পরিযায়ী শ্রমিক এই বিধানসভা এলাকায় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই দূর রাজ্য থেকে ফিরে এসেছেন শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার জন্য। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার শ্রমিক ইতিমধ্যেই বাড়ি ফিরেছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, নিজের খরচে তারা ফিরেছেন, কারণ এই ভোট তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
কেরালার এর্নাকুলাম থেকে আসা একদল শ্রমিক জানান, চার দিন ধরে বাসে করে তারা যাত্রা করেছেন। তাঁদের কথায়, গ্রামের উন্নয়ন এবং নিজেদের অধিকার ফেরানোর আশায় তারা ভোট দিতে এসেছেন। একইসঙ্গে অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কাজের অভাব, দুর্নীতির অভিযোগ—এইসব বিষয় উঠে এসেছে তাঁদের কথায়।
ডোমকলের বিভিন্ন গ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। রাজাপুর গ্রামে গত দুই দিনে প্রায় ৯০০ জন শ্রমিক ফিরে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, ভোটের দিন তারা গ্রামে থেকে পরিস্থিতি নজরে রাখবেন।
এদিকে, স্থানীয় কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তারা পাননি। ঘর পাওয়ার জন্য টাকা নেওয়া হলেও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এইসব ক্ষোভও মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিক থেকেও ডোমকল এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানে প্রধান লড়াই তৃণমূল এবং সিপিএম-এর মধ্যে। বিজেপির উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়ছে না বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু পরিবার তৃণমূল ছেড়ে সিপিএম-এর দিকে ঝুঁকেছে বলেও জানা যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের কথায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় উন্নয়ন থমকে রয়েছে। সেই কারণে পরিবর্তনের আশা করছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি বড় সুযোগ। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে ডোমকলে যে জনসমাগম দেখা গেল, তা এই এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এখন দেখার, ভোটের ফলাফল কী বার্তা নিয়ে আসে এবং মানুষের এই অংশগ্রহণ কতটা প্রভাব ফেলে নির্বাচনের ফলাফলে।


