বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সেই কারণে খাতায়-কলমে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির পতাকা হাতে নেওয়ার ঘটনা সেভাবে দেখা না গেলেও, তলে তলে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নদিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইদানীং বিজেপি নেতাদের পিছনে পিছনে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের একসময়কার দাপুটে নেতা-কর্মীদের। পদ্ম শিবিরে আনুষ্ঠানিক যোগদান না করেও গেরুয়া নেতাদের এই ঘনিষ্ঠতা ঘিরে বিজেপির নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছে এলাকার তৃণমূল নেতা আনন্দ দে-কে, যা নিয়ে সমাজমাধ্যমে তুমুল শোরগোল পড়েছে। একইভাবে কালীগঞ্জ বিধানসভাতেও পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলী কর্মাধ্যক্ষ ও বেশ কিছু নেতাকে পদ্ম শিবিরের মঞ্চ আলো করে বসতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি চাপড়ার কুখ্যাত তৃণমূল নেতা রাজীব শেখের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থীর ছবিও ভাইরাল হয়েছে, যদিও গেরুয়া শিবির একে পুরনো ছবি বলে দাবি করেছে। করিমপুর, তেহট্ট ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণ থেকেও এমন দলবদলের সুপ্ত চেষ্টা সামনে আসছে। এতে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের আশঙ্কা, যাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে তাঁরা এতদিন মার খেয়ে লড়াই করলেন, তাঁরাই এখন নেতাদের হাত ধরে দলের মাথায় চড়ে বসছেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন যে, জনপ্রতিনিধিরা সব দলের মানুষের জন্যই কাজ করেন। তৃণমূলের কিছু অতি উৎসাহী কর্মী বিধায়কদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করলেও একে কোনও ‘সেটিং’ বলা ভুল হবে। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার জানান, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু সুযোগসন্ধানী তৃণমূলী সামনে চলে আসছে। তবে দল তাদের চিহ্নিত করছে এবং কোনও দলীয় কর্মসূচিতে এদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে না।


