ওমান সাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই ঘটনাকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর মতো গুরুতর ঘটনার পরেও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট দৃঢ় প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তাঁর বক্তব্য, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী দেশের সরকার বিদেশি শক্তির সামনে মাথা নত করতে পারে না। কিন্তু বর্তমান সরকারের আচরণে সেই দৃঢ়তার অভাব স্পষ্ট বলে তিনি দাবি করেন।
রাহুল আরও বলেন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আমেরিকার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক দুঃখপ্রকাশ বা অনুশোচনার বার্তা সামনে আসেনি। বরং আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলির জন্য একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে আরও জোরালো অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল বলেও তিনি মনে করেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী এবং আশপাশের সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রশ্নে আমেরিকার অবস্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ওই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশ মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি, ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিষয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গ টেনে রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের মতো একটি সার্বভৌম দেশের প্রতি এমন ভাষা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিবাদ জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব রয়েছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও একই সুরে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই দেশের মর্যাদা ও আত্মসম্মানের কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান রক্ষার বিষয়ে সরকার যথেষ্ট সক্রিয় নয় বলে মনে হচ্ছে।
খাড়্গের দাবি, তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর কয়েক দিন কেটে গেলেও প্রধানমন্ত্রী এখনও প্রকাশ্যে কোনও শোকবার্তা দেননি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো বা ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য না রাখায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলগুলির সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।


