কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি সাহিত্য আলোচনা সভায় নিজের লেখালেখির অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরলেন ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতীয় লেখিকা বানু মুশতাক। গত বৃহস্পতিবার ‘এক্সটি৬ কলকাতা লিটারারি মিট’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। তাঁর পুরস্কারজয়ী গল্প সংকলন ‘হার্ট ল্যাম্প’ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিনি একজন মুসলিম নারী লেখক হিসেবে নিজের অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বানু মুশতাক বলেন, লেখা হয়তো অনেকের কাছে সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু একজন লেখক হিসেবে নিজের ভাবনা ও বিশ্বাস ধরে রাখা খুব কঠিন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে একজন মুসলিম নারী হিসেবে এই লড়াই আরও বেশি। তাঁর কথায়, একটি বই প্রকাশের মধ্য দিয়েই লেখকের সংগ্রাম শেষ হয় না, বরং তখনই আসল লড়াই শুরু হয়। তিনি জানান, কর্মজীবনের শুরুতে কোনো প্রভাবশালী বা ‘গডফাদার’-এর সাহায্য ছাড়াই তাঁকে বহু প্রকাশকের কাছে যেতে হয়েছিল। দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পর তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। তবে বই প্রকাশের পরেও তাঁকে থামতে হয়নি। তীব্র সমালোচনা ও নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে বারবার নিজের লেখার পক্ষে কথা বলতে হয়েছে। নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে বানু মুশতাক বলেন, “আমি শুধু একজন লেখক নই, আমি একজন মুসলিম নারী লেখক। এই পরিচয় আমাকে সবসময় বহন করতে হয় এবং এর মধ্যেই আমাকে লিখতে হয়।” তিনি আরও জানান, তাঁর একটি গল্প প্রকাশের পর সমাজের একাংশের কাছ থেকে তাঁকে লাগাতার কটূক্তি সহ্য করতে হয়েছে। সেই মানুষদের অনেকেই সাহিত্য বা তার গভীরতা বোঝেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লেখিকা বলেন, মানসিক আঘাত সত্ত্বেও তিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে সমাজের বিশেষাধিকার ও ক্ষমতার কাঠামোকে প্রশ্ন করেছেন।


