রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কিছু সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-অধ্যাপকদের ভোটের দিন প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার বিষয়টি নিয়ে আদালতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের পুরনো নির্দেশিকা অনুযায়ী গ্রুপ ‘এ’ স্তরের কর্মকর্তাদের বুথের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়মের মধ্যে শিক্ষক বা অধ্যাপকদের এই দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তাই কোন পরিস্থিতিতে তাঁদের এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি নির্দেশ দেন, নির্বাচন কমিশনকে আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে মামলাকারীকেও একটি তালিকা দিতে বলা হয়েছে, যেখানে উল্লেখ থাকবে ঠিক কতজন শিক্ষক-অধ্যাপককে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, একটি সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে কমিশনের বক্তব্যে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন কমিশন নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সব তথ্য তাদের কাছে রয়েছে, তখন হঠাৎ করে কর্মীর ঘাটতির কথা কেন বলা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে সব দিক ভেবে নেওয়া উচিত ছিল। এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে কমিশনের জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।


